আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে

আগের দিনের বড় দরপতনের পর গতকাল আবারো দাম বেড়েছে স্বর্ণের।

আগের দিনের বড় দরপতনের পর গতকাল আবারো দাম বেড়েছে স্বর্ণের। মূলত বছর শেষে কেনাবেচা কমে যাওয়াকেই পণ্যটির দামের এ অস্থিরতার জন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাজারে বিদ্যমান মৌলিক প্রভাবকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে আগামী বছর মূল্যবান ধাতুটির দাম আবারো রেকর্ড উচ্চতা ছাড়িয়ে যেতে পারে মনে করছেন তারা। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৮৭ ডলার ২৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার কেনাবেচার একপর্যায়ে ধাতুটির দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৫৪৯ ডলার ৭১ সেন্টে পৌঁছেছিল। তবে সোমবার দাম কমে ১৭ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্নে নেমে আসে। ওইদিন ২১ অক্টোবরের পর শতাংশের হিসাবে একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটে। এছাড়া গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি পৌঁছেছে ৪ হাজার ৪০১ ডলার ৯০ সেন্টে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ছুটির মৌসুমে কেনাবেচা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা বেড়েছে। সোমবার স্বর্ণের দামে বড় পতনের পর গতকাল তুলনামূলক কম দামে ক্রয় বেড়ে যায়। এতে মূল্যবান ধাতুটির দাম কিছুটা বেড়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কাইল রডা বলেন, ‘সোমবার বাজার খোলার পর স্বর্ণের যে বড় দরপতন হয়েছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাজারে অস্থিরতা কতটা বেশি। ছুটির মৌসুমে লেনদেন কম থাকায় এ অস্থিরতা আরো বেড়েছে।’

চলতি বছরের এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সুদহার কমানোর প্রত্যাশা, দেশটির মুদ্রানীতিতে শিথিলতার সম্ভাবনা, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংঘাত, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী ক্রয় চাহিদা এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফে বিনিয়োগ বাড়াই মূল্যবান ধাতুটির দামে ঊর্ধ্বগতির প্রধান চালক।

আগামী বছর ফেড অন্তত দুই দফায় সুদহার কমাতে পারে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদহার কম থাকলে ব্যাংক আমানত ও বন্ডের মতো বিনিয়োগে মুনাফা কমে যায়। সে কারণে সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, যা দরবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

একই দিনে রুপার দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৭৪ ডলার ৭৮ সেন্টে। এর আগে সোমবার কেনাবেচার একপর্যায়ে রুপার দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৮৩ ডলার ৬২ সেন্টে উঠেছিল। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে ১৫৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তালিকায় রুপার অন্তর্ভুক্তি, সরবরাহ সংকট এবং শিল্প ও বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধিকে এ উল্লম্ফনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে প্লাটিনামের দাম স্পট মার্কেটে গতকাল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ১৭৭ ডলার ৫৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্যালাডিয়ামের দাম গতকাল দশমিক ৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬২২ ডলার ৬৭ সেন্টে।

আরও